Untitled Document
ফুল
আহ্ হুরহুরি!
- প্রিসিলা রাজ

মীরপুর বোটানিকালে যাব আজ কথা হয়ে আছে বহুদিন অবন্তীর সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত যাওয়া হলো, পত্রিকা অফিসের নাদান সিএনজি চালক ভুল পথে ঘুরে ঘুরে গভীর রাতে রূপনগর পৌঁছে দিলো। এখানেই অবন্তীদের বাড়ি। ভোরে বোটানিকালে ঢুকব বলে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। ঠেলাঠেলিতে ঘুম ভেঙে দেখি আটটার ওপরে বাজে। তাড়াতাড়ি কিছু মুখে দিয়ে দু’জনে বেরিয়ে পড়ি। রূপনগরের সরু গলির ঘনবসতি ধরে মিনিট দশেক হাঁটতেই বোটানিকাল গার্ডেনের পেছন সীমানার দেওয়াল। সেখানে এক ভাঙা। শুনলাম গার্ডেন কর্তৃপক্ষ সেই ফাঁক বন্ধ করার চেষ্টা করেছে কয়েকবার। কিন্তু যতবারই দেওয়াল মেরামত করে ততবারই রাতের অন্ধকারে কারা যেন ভেঙে দেয়। শেষে মেরামতের চেষ্টায় ক্ষান্ত দিয়ে ফাঁকের মুখে টিকিটবাবু বসিয়েছে তারা। দেওয়াল পেরিয়ে মুগ্ধ হলাম। এ বছর বর্ষা দেরীতে এসেছে, ভাদ্র মাসের শেষেও তাই হাওয়ায় ভিজে ভাব প্রবল। সেই ভিজে ভাব গায়ে মেখে, সারা বর্ষার জলে ভেজা গাছগুলো সবুজের চন্দ্রাতপ রচনা করেছে। ঢাকা শহরের এরকম এক প্রিয় জায়গা আমার রমনা পার্ক। যাওয়া হয় না সচরাচর, কিন্তু যখন যাই, বিশেষ করে বর্ষায় মুগ্ধ হয়ে যাই। সবুজ এত সুন্দর।

এবার অবশ্য বোটানিকালে আসা হয়েছে বিশেষ এক উদ্দেশ্য নিয়ে। সাপলুডুর সম্পাদক সাগর আমাকে অনেকদিন ধরে বলে আসছিলেন যেন র ফরম্যাটে ছবি তুলি। শব্দটার ইংরেজী বানান RAW, ছবি তোলার এক বিশেষ ফরম্যাট সেটা। সাগর বলেছিলেন র ফরম্যাটে ছবির যে দর্শনদারি তাতে নাকি অন্য ফরম্যাটে ছবি তোলার ইচ্ছাই হবে না। তো এবার বোটানিকালে এলাম সাগরের সে কথা বিচার করতে। সময় কম, মেমোরি ছোট, বেশী তুলতে পারলাম না। পরে কম্পিউটারে ছবিগুলো দেখে তো অবাক, কী ঝকঝকে ছবি। হাত কামড়াতে ইচ্ছা হলো কেন এতদিন জেপিইজি ফরম্যাটে ছবি তুলেছি! বিচ্ছিরি ফরম্যাট। যাক গে।

বোটানিকালে তোলা ছবি থেকে এবার দিলাম আমার প্রিয় বনফুল বেগুনি হুরহুরির ছবি। আমি কিন্তু জানি বেগনি বানানটা। কিন্তু হুরহুরির সঙ্গে কেন যেন বেগুনি শব্দটাই মানানসই। বলিও তো সেভাবেই! বেগুনি হুরহুরি এক অনমনীয় জেদী গাছ। মানুষের উৎপাতে দেশ থেকে অনেক বনজ গাছ উধাও হলেও এটা মনে হয় সহজে যাবে না। ফুল থেকে চিকন ছোট ছোট মটরশুঁটির মতো ফল বেরোয়। আর তার থেকে কালো কালো বিচি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানেই একটু পানি জোটে সেখানেই অঙ্কুর জন্মে যায়। ভীষণ পানিপিয়াসী গাছ। একবার আমার আটতলার জানালায় এক বেগুনি হুরহুরি গাছকে লাই দিয়েছিলাম Ñ দেখি কতটা বাড়তে পারিস। তা শেষে আমার জানালা জড়িয়ে-মরিয়ে সে এক বিশাল লতানে চেহারা নিল। প্রচুর ছোট ছোট ফুল ফোটে। ভালই লেগেছিল সেবার।


আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ


আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
অজানা ফুল
হেঁটে হেমায়েতপুর

আকন্দ
আকন্দ কথকতা

উজনি
উজনির ঝিনঝিন

কড়াইশুঁটি
কড়াইশুঁটির বিস্ময়

কাউয়াঠুকরি
ফিবোনাক্কির কেরামতি

কানফুল
শুভ্র কানফুল

চুনিয়াঝোরার ফুল
চুনিয়াঝোরার ফুল

তৃণাক্ষী
তৃণাক্ষী

দাঁতরাঙা
পথের ধারে দাঁতরাঙা

ধূসর, সবুজ ও নীল ফুল
চুনিয়াঝোরায় ধূসর, সবুজ ও নীল

পটল ফুল
বুড়ার দাড়ি

পাঁচ পাপড়ির ফুল
পাঁচ পাপড়ির পদ্য

পুঁতিফুল
পুঁতিফুল

বনদোপাটি
বনদোপাটি?

বেগুনি ফুল
তিন পাপড়ির ফুল

বেগুনি হুরহুরি
আহ্ হুরহুরি!

বেরেলা
বেরেলা, কুরেটা অথবা উরুশিয়া

বড় আমরুল
বড় আমরুল

মায়াংবা ফুল
মায়াংবার মায়ায়

লাইশাক
লাইশাক ও কয়েকটি সকাল

শশাফুল
ব্রহ্মপুত্রে শশাফুল

শেরামণি
শেরামণি ও শার্শার নসুবালা

সাদা ফুল
মডেল পুক

সোনাফুল
চাম্পারাইয়ে থার্টি

হাতিশুঁড় ফুল
হাতিশুঁড়

হালকা বেগুনি ফুল
দাঁতাল

সাপলুডুর অন্যান্য সংখ্যায় প্রকাশিত ফুলসমূহ
Untitled Document