Untitled Document
ফুল
পাঁচ পাপড়ির পদ্য
- প্রিসিলা রাজ

সিলেটের মাটি-জল-হাওয়ায় কী যেন আছে, বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় ফলে এমন গাছপালা তো আছেই, সঙ্গে এখানকার নিজস্ব নানা ধরনের উদ্ভিদও আছে। সেসব গাছপাতা দেশের অন্যান্য জায়গায় মনে হয় তেমন দেখা যায় না। অবশ্য আমি উদ্ভিদ বিশারদ না, সাধারণ দেখা থেকে বলছি। মাইবাম চন্দ্রশেখর, চেনাজনদের কাছে যাঁর নাম বদর আমাকে মুরারীচাঁদ কলেজে নিয়ে গিয়েছিলেন মাংসখেকো গাছ সূর্যশিশির দেখাতে। সে আজ থেকে দশ-বারো বছর আগের কথা। দিনে না গিয়ে রাতে কেন গিয়েছিলাম এখন আর তা মনে করতে পারি না। কলেজের বাতিবিহীন বিশাল প্রাঙ্গণে আমরা হামাগুড়ি দিয়ে টিলায় টিলায় সূর্যশিশির খুঁজেছিলাম। সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল। টর্চের আলোয় ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট ফুলগুলোতে শিশিরের ফোঁটাগুলো জ্বলজ্বল করছিল। বদরদা বললেন ওগুলো শিশির না, পোকা ধরার আঠা। কোনো কোনো ফুলে আটকা পড়া ক্ষুদে মাকড়সাও চোখে পড়েছিল। বীভৎস!
বদরদা বলেছিলেন মুরারীচাঁদ কলেজের টিলাগুলো কেটে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যশিশিরও অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এগুলো নাকি সিলেট শহরের অন্য এলাকায় দেখেননি। বাড়ীতে উৎপাদনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। ‘এমনকী এই টিলার মাটি নিয়ে গিয়েও আমি চেষ্টা করে দেখেছি, বাঁচেনি,’ বলেছিলেন বদরদা। হতে পারে একই শহরে আলো-হাওয়ার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তারতম্যও হয়ত এদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বদরদা আরো বলেছিলেন ছোটবেলা তিনি সিলেট শহরে আরেক মাংসখেকো উদ্ভিদ কলসি গাছও দেখেছিলেন পরে যেগুলো মাঠে-ঘাটে বাড়ি উঠে যাওয়াতে উধাও হয়ে গেছে।
তো ১৪১৭-এর শীতে সিলেট গিয়েছিলাম। প্রিয়তম বন্ধু রিয়াজ ভাইয়ের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলাম উপশহর দিয়ে। এক বাড়ির সামনে বাগানের বেড়ার বাইরে আগাছার ফুলগুলোকে চোখে পড়ল। পাঁচটা পাপড়ির অদ্ভুত বিন্যাস। ক্যামেরা ছিল না বলে আফসোস হলো। কিন্তু সেই ফুলেরই বিরাট ঝোপ আবিষ্কার করলাম কিছুদিন পর কমলগঞ্জে গিয়ে। সেখানকার ইন্টিগ্রেটেড মণিপুরী এসোসিয়েশন সংক্ষেপে ইমার কার্যালয়ে গিয়েছিলাম কোনো এক কাজে। ইমার কার্যালয়টি ছোটখাটো, সুন্দর, গোছানো। একদিকে টিনের চাল দেওয়া লম্বা পাকা অফিসঘর, সামনে ছোট মাঠ আর দেয়াল ঘেঁষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা হিজম ইরাবত সিংহের আবক্ষ মূর্তি। এসব দেখতে দেখতে চোখ গেল বাগানের ইঁটঘেরা কেয়ারির ঠিক বাইরে ফুটে থাকা ফুলগুলোর ওপর। পাঁচ পাপড়ির কবিতাই। আলো মরে এসেছিল, যথাসাধ্য ছবি নিলাম। কিন্তু বাগানে তার বি¯তৃতির সৌকর্য বোঝানোর সাধ্য আমার ছবির নেই।


আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ


আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
অজানা ফুল
হেঁটে হেমায়েতপুর

আকন্দ
আকন্দ কথকতা

উজনি
উজনির ঝিনঝিন

কড়াইশুঁটি
কড়াইশুঁটির বিস্ময়

কাউয়াঠুকরি
ফিবোনাক্কির কেরামতি

কানফুল
শুভ্র কানফুল

চুনিয়াঝোরার ফুল
চুনিয়াঝোরার ফুল

তৃণাক্ষী
তৃণাক্ষী

দাঁতরাঙা
পথের ধারে দাঁতরাঙা

ধূসর, সবুজ ও নীল ফুল
চুনিয়াঝোরায় ধূসর, সবুজ ও নীল

পটল ফুল
বুড়ার দাড়ি

পাঁচ পাপড়ির ফুল
পাঁচ পাপড়ির পদ্য

পুঁতিফুল
পুঁতিফুল

বনদোপাটি
বনদোপাটি?

বেগুনি ফুল
তিন পাপড়ির ফুল

বেগুনি হুরহুরি
আহ্ হুরহুরি!

বেরেলা
বেরেলা, কুরেটা অথবা উরুশিয়া

বড় আমরুল
বড় আমরুল

মায়াংবা ফুল
মায়াংবার মায়ায়

লাইশাক
লাইশাক ও কয়েকটি সকাল

শশাফুল
ব্রহ্মপুত্রে শশাফুল

শেরামণি
শেরামণি ও শার্শার নসুবালা

সাদা ফুল
মডেল পুক

সোনাফুল
চাম্পারাইয়ে থার্টি

হাতিশুঁড় ফুল
হাতিশুঁড়

হালকা বেগুনি ফুল
দাঁতাল

সাপলুডুর অন্যান্য সংখ্যায় প্রকাশিত ফুলসমূহ
Untitled Document