Untitled Document
ফুল
পথের ধারে দাঁতরাঙা
- প্রিসিলা রাজ

সেই কোন ছোটবেলায় ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে জয়দেবপুর বা তার আশপাশের লাল মাটির বনে প্রথম দেখেছিলাম দাঁতরাঙাকে। তখন রাস্তার কাজ চলছিল। গাড়ির ভীড় আর ধুলার চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে কি অবহেলাতেই না বিপন্ন ঝোপগুলোর বৃন্তে ফুলগুলো ফুটে থাকত। তারপর তো ঢাকার বাইরে গেলেই দাঁতরাঙাকে দেখি আর তখনই ছোটবেলার প্রথম দেখার কথা মনে পড়ে যায়।

বড় সুন্দর ফুল দাঁতরাঙা। ওর যে এই নাম সেটা প্রকৃতিপ্রেমিক নওয়াজেশ আহমেদের বই পড়ে জেনেছি। গাঢ় লালচে বেগনি পাপড়ি, মাঝখানে উজ্জ্বল হলুদ আর লালচে বেগনি কেশর। বাংলাদেশের মাটিতে দক্ষিণাঞ্চল ছাড়া মনে হয় সবখানেই ফোটে। এখানে যে ছবিগুলো দিয়েছি তা তুলেছিলাম সিলেটে। আমি আর এক বন্ধু মিলে সিএনজিতে চেপে যাচ্ছিলাম গোলাপগঞ্জে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের পূর্বপুরুষের ভিটে দেখতে। হঠাৎ চোখে পড়ল রাস্তার পাশে বেশ বড় এক ঝোপে অনেকগুলো দাঁতরাঙা ফুটে আছে। সিএনজি থামাতে বলে নেমে গিয়ে বেশ কিছু ছবি তুললাম। গাছ আর ফুল দু’টোই তাজা, পথের পাশে যেমন ধূলিধূসরিত দেখা যায় একেবারেই তেমন না।



দাঁতরাঙার ইংরেজী নাম ইন্ডিয়ান রডোডেনড্রন। রডোডেনড্রনকে রবীন্দ্রনাথ অমর করে গেছেন শেষের কবিতায়। সেই যে ‘উদ্ধত যত শাখার শিখরে/রডোডেনড্রনগুচ্ছ। দার্জিলিঙের নির্জন পাহাড়ি পথে দৈবের বশে লাবণ্যর সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিচয় শেষে অমিত বাড়ি ফিরলে তার ওপর নিবারণ চক্কোত্তির ভর হয় আর তার ফলে দুদ্দাড় বেগে বেরিয়ে আসে ঝোড়ো পংক্তিমালা। অবশ্য যে রডোডেনড্রনকে ঘিরে নিবারণ কবির উচ্ছ্বাস তা হিমালয় পাহাড়ে জন্মানো বুনো রডোডেনড্রন। বাংলার রডোডেনড্রনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই, অন্ততঃ চেহারায় তো নয়ই। দাঁতরাঙা ফুল যেমন সুন্দর, গাছটাও কম সুন্দর না। ঝোপ ঝোপ, পাতাটা কালচে সবুজ, দেখলে তেজপাতার কথা মনে পড়ে যায়। বলতে ভুলে যাচ্ছি, নেপালে আমি এ ফুলেরই আরেকটা জাত দেখেছিলাম, তার ছিল ফিকে বেগনি রঙের পাপড়ি।

যেখানে ছবিগুলো তুলছিলাম সেখানে আরো কয়েকটা ঝোপ দেখা গেল দাঁতরাঙার। গাছটার এরকম ঘন ঘন তাজা ঝোপ আগে কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ল না। অনেকগুলো ছবি তুলে, ফুলগুলোকে তারিফ করে ফিরে এলাম সিএনজিতে। বন্ধুটি বললেন, ‘আপনি চলন্ত গাড়ি থেকে এত দূরে গাছটা দেখলেন কী করে?’ ‘একেই বলে ফুলশিকারী,’ আমি উত্তর দিই। গাড়ি চলতে শুরু করে। বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনের ভেতর গুনগুনিয়ে ওঠে বুড়োর রডোডেনড্রন গাথা। বাড়ি ফিরে অন্তর্জালে হানা দিই, নিবারণ চক্কোত্তি ঝলমলিয়ে ওঠেন:

পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি
আমরা দুজন চলতি হাওয়ার পন্থী।
রঙিন নিমেষ ধুলার দুলাল
পরানে ছড়ায় আবীর গুলাল,
ওড়না ওড়ায় বর্ষার মেঘে
দিগঙ্গনার নৃত্য;
হঠাৎ-আলোর ঝলকানি লেগে
ঝলমল করে চিত্ত।
নাই আমাদের কনক-চাঁপার কুঞ্জ,
বনবীথিকায় কীর্ণ বকুলপুঞ্জ।
হঠাৎ কখন সন্ধ্যাবেলায়
নামহারা ফুল গন্ধ এলায়,
প্রভাতবেলায় হেলাভরে করে
অরুণ মেঘেরে তুচ্ছ
উদ্ধত যত শাখার শিখরে
রডোডেনড্রনগুচ্ছ।






ছবি ও লেখা: প্রিসিলা রাজ
অজানা ফুল
হেঁটে হেমায়েতপুর

আকন্দ
আকন্দ কথকতা

উজনি
উজনির ঝিনঝিন

কড়াইশুঁটি
কড়াইশুঁটির বিস্ময়

কাউয়াঠুকরি
ফিবোনাক্কির কেরামতি

কানফুল
শুভ্র কানফুল

চুনিয়াঝোরার ফুল
চুনিয়াঝোরার ফুল

তৃণাক্ষী
তৃণাক্ষী

দাঁতরাঙা
পথের ধারে দাঁতরাঙা

ধূসর, সবুজ ও নীল ফুল
চুনিয়াঝোরায় ধূসর, সবুজ ও নীল

পটল ফুল
বুড়ার দাড়ি

পাঁচ পাপড়ির ফুল
পাঁচ পাপড়ির পদ্য

পুঁতিফুল
পুঁতিফুল

বনদোপাটি
বনদোপাটি?

বেগুনি ফুল
তিন পাপড়ির ফুল

বেগুনি হুরহুরি
আহ্ হুরহুরি!

বেরেলা
বেরেলা, কুরেটা অথবা উরুশিয়া

বড় আমরুল
বড় আমরুল

মায়াংবা ফুল
মায়াংবার মায়ায়

লাইশাক
লাইশাক ও কয়েকটি সকাল

শশাফুল
ব্রহ্মপুত্রে শশাফুল

শেরামণি
শেরামণি ও শার্শার নসুবালা

সাদা ফুল
মডেল পুক

সোনাফুল
চাম্পারাইয়ে থার্টি

হাতিশুঁড় ফুল
হাতিশুঁড়

হালকা বেগুনি ফুল
দাঁতাল

সাপলুডুর অন্যান্য সংখ্যায় প্রকাশিত ফুলসমূহ
Untitled Document