Untitled Document
ফুল
শুভ্র কানফুল
- প্রিসিলা রাজ

আমার আঙিনায়

শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে―
বলিলাম―একদিন এমন সময়
আবার আসিয়ো তুমি―আসিবার ইচ্ছা যদি হয়―
পঁচিশ বছর পরে।
এই বলে ফিরে আমি আসিলাম ঘরে;
তারপর, কতবার চাঁদ আর তারা
মাঠে মাঠে মরে গেল, ইঁদুর-পেঁচারা
জ্যোৎস্নায় ধানক্ষেত খুঁজে
এল গেল; চোখ বুজে
কতবার ডানে আর বাঁয়ে
পড়িল ঘুমায়ে
কত-কেউ; রহিলাম জেগে আমি একা; নক্ষত্র যে বেগে
ছুটিছে আকাশে
তার চেয়ে আগে চলে আসে
যদিও সময়,
পঁচিশ বছর তবু কই শেষ হয়।

রাজু আলাউদ্দীন আমার কবিতার জানালা। প্রিয়ে সম্বোধন করেন, সখী জ্ঞানে কবিতা শোনান সাহিত্যের ছাত্রী হয়েও আমার অজ্ঞানমসী তাঁর ব্যাপক বিরক্তি ও হতাশা উৎপাদন করে। গেল হপ্তায় হরতালের সুযোগে কবিবরের সঙ্গে দেখা। দোকানপাট বন্ধ, যানবিরল রাস্তা, ম্লান সরকারী আলোয় সন্ধ্যার খোলতাই হয়েছিল বেশ। মহাখালীর এক মোড়ে চটপটির গাড়ীদোকানে বসেছিলাম। আলাপ যথাবিহিত কবিতায় মোড় নিল। পঁচিশ বছর পরের কথা শুনলাম। কবিতায় সময়ের অনুভূতি তাঁকে আবিষ্ট করেছে। আমাকেও করল। বাড়ী ফিরে রণেশ দাশগুপ্ত সম্পাদিত জীবনানন্দ দাশের কাব্য সম্ভার বের করে খুঁজি। ধারণা ছিল শেষের দিকে গুপ্তধনের মতো লুকিয়ে আছে। ভুল ভেবেছি। ওটা ধূসর পান্ডুলিপির পাঁচ নম্বর কবিতা। জীবনানন্দে সময়ের একরৈখিক বোধ বদলে যায়। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের মতো। পঁচিশ বছর পরেতে সে বোধ গভীরতর।

***







লিখতে বসেছিলাম ফুলের কথা, এসে গেল মহাখালীর সন্ধ্যা।

নতুন ক্যামেরা কিনেছি। ক্যাননের পাওয়ারশট জি-১৫। অফিস পরের সময়টা ওটা নিয়ে খুটুরখাটুর করতে করতে কেটে যায়। এক সকালে শারমিন বেগম আকর্ণবিস্তৃত হাসি নিয়ে আমার ঘরে ঢোকে, আপা, কারনেশনের টবে এত সুন্দর সাদা ফুল ফুটছে! শারমিন আমাদের পুষ্যি কাম আমার সচিব কাম বাড়ির কেয়ারটেকার। উচ্চমাধ্যমিক দেবে। ওর নাম আসলে শারমিন আখতার, আমার বচনে বেগম হয়ে গেছে। বনফুলের নেশা ওকেও ধরেছে। ছাদের বাগিচায় গিয়ে দেখি সত্যি সত্যি ছায়ায় রাখা টবে শুভ্র কানফুল ধরে আছে। মটরদানার চেয়েও ছোট পাঁচ পাপড়ির ফুল। মাঝে কুটি কুটি কেশর, তাও সাদা। মুগ্ধ চোখে তারিফ করছি, চোখ গেল আরেকটা ডালে বিন্যস্ত সবুজ মখমলের বোতামটার দিকে। টিপ বোতামের মতো একটা অংশ, তাতে সবুজ রোঁয়া। ভাবলাম ওটা বুঝি ফল। কিন্তু শারমিনই দেখাল ওটা থেকেই ফুলগুলো গজায়। খেয়াল করে দেখি সবুজ রোঁয়াগুলোই একেকটা ফুলের বৃতি। একটা বোতামের ভেতর থেকে দুটি ফুল গজিয়েছে। দুদিন পর একটা বোতামে চারটা ফুল দেখেছিলাম। গাছটার গঠন কালোকেশীর মতো। সেই যে চুল কালো করার জন্য যে গাছের পাতা বেটে মাথায় দেয়।

বাসায় বসেই নতুন ক্যামেরার জন্য বেশ খোরাক পাওয়া গেল।

ছবি ও লেখা: প্রিসিলা রাজ
নভেম্বর ২০১৩
অজানা ফুল
হেঁটে হেমায়েতপুর

আকন্দ
আকন্দ কথকতা

উজনি
উজনির ঝিনঝিন

কড়াইশুঁটি
কড়াইশুঁটির বিস্ময়

কাউয়াঠুকরি
ফিবোনাক্কির কেরামতি

কানফুল
শুভ্র কানফুল

চুনিয়াঝোরার ফুল
চুনিয়াঝোরার ফুল

তৃণাক্ষী
তৃণাক্ষী

দাঁতরাঙা
পথের ধারে দাঁতরাঙা

ধূসর, সবুজ ও নীল ফুল
চুনিয়াঝোরায় ধূসর, সবুজ ও নীল

পটল ফুল
বুড়ার দাড়ি

পাঁচ পাপড়ির ফুল
পাঁচ পাপড়ির পদ্য

পুঁতিফুল
পুঁতিফুল

বনদোপাটি
বনদোপাটি?

বেগুনি ফুল
তিন পাপড়ির ফুল

বেগুনি হুরহুরি
আহ্ হুরহুরি!

বেরেলা
বেরেলা, কুরেটা অথবা উরুশিয়া

বড় আমরুল
বড় আমরুল

মায়াংবা ফুল
মায়াংবার মায়ায়

লাইশাক
লাইশাক ও কয়েকটি সকাল

শশাফুল
ব্রহ্মপুত্রে শশাফুল

শেরামণি
শেরামণি ও শার্শার নসুবালা

সাদা ফুল
মডেল পুক

সোনাফুল
চাম্পারাইয়ে থার্টি

হাতিশুঁড় ফুল
হাতিশুঁড়

হালকা বেগুনি ফুল
দাঁতাল

সাপলুডুর অন্যান্য সংখ্যায় প্রকাশিত ফুলসমূহ
Untitled Document