Untitled Document
ফুল
উজনির ঝিনঝিন
- প্রিসিলা রাজ

ছোটবেলায় ফুলটা কেন যেন তেমন মনে ধরত না, বেশী নিরাভরণ বলেই হয়ত। আশেপাশে অনেক অলঙ্কৃত ফুল ফুটে থাকত যাদের কাছে ওর কিছুবা কড়া হলুদ একরঙা এক পাপড়ির শরীর ম্লান দেখাত। সেসময় ঢাকায় জলা জায়গা, জঙ্গল ছিল ঢের। ভেজা ভেজা মাটিতে বিশাল ঝোপ বানিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ফুটে থাকত। প্রেমটা জন্মাল বড় হয়ে। রাজধানীতে ইঁটকাঠের জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় গাছটা প্রায় অদৃশ্যই হয়েছে, ঢাকার বাইরে গেলে আবার যখন ওকে আবিষ্কার করি ছোটবেলার অপছন্দের কথা মনে পড়ে যায় আর ভেবে অবাক হই নিবিড় সবুজের মাঝখানে ঘন ঘন হলুদ বুটির এই শান্ত বিন্যাস কেন টানত না আমাকে।

এ পাতা যে খাওয়াও যায় জানতে পেলাম পাহাড়ে গিয়ে। খাগড়াছড়িতে আমার প্রথম বন্ধু জোনাকি চাকমার সঙ্গে হাঁটাহাঁটির কালে একবার হলুদ ফুলের ঝাঁক দেখিয়ে সে বলেছিল ওগুলো উজনি শাক। আমি খেতে চাইলে ও বলল, “আপনি পারবেন? ওগুলো খেলে দাঁত ঝনঝন করে।” দাঁত ঝনঝন - সে আবার কী? জোনাকির ব্যাখ্যায় বুঝলাম স্বাদটা ব্যাখ্যাতীত - বুঝতে হলে খেতে হবে। পরে জেনেছিলাম সমতলেও এ শাক খাওয়া হয়, ঢাকার এদিকে নাম বোধহয় “শুষনি শাক” আর রংপুরে “রসুন শাক”।

তারও বহু বছর পর উজনির ঝনঝনে স্বাদ পেলাম খাগড়াছড়িতেই ইলিরা-পুলকের বাসায় বসে। ২০০৬-এর দিকেই হবে বোধ হয়, কী এক কাজে সেখানে গিয়ে ওদের বাসায় উঠেছিলাম। মনে আছে ওদের পোষ্য তনয় ত্রিপুরার কাছে উজনি শাকের কথা তুলতে ও একদিন মাঠ থেকে তুলে এনে খাইয়েছিল। প্রচুর পিঁয়াজকুচি, রসুন কুচি আর কাঁচা মরিচের বাগাড়ে শাকটা ভাজা হয়েছিল। সকালবেলা গরম ভাতের সঙ্গে গরম গরম উজনি শাক মুখে দিতে অমৃতের মতো লাগল। কোথায় ঝিনঝিন? পুলকের দিকে চেয়ে যেই না বলতে গেছি “কোথায় আপনাদের ঝনঝন!” অমনি ঝ্যাং করে লাগল। ঠাহর পেলাম না ঠিক কোথায় লাগল। পরে বুঝলাম যথাস্থানে অর্থাৎ দাঁতেই লেগেছে। অ্যাকশন! ঝনঝন ঝিনঝিন ঝ্যাংঝ্যাং ঝংঝং - চিবাচ্ছি আর উজনি শাক তার ক্যারিশমা দেখিয়ে চলেছে।

“বলেছিলাম না আপনাকে!” পুলক আমাকে বলে। বেশ খানিকটা ভেবড়ে গেলেও উজনির স্বাদ কিন্তু ভালই লেগেছে। ওকে বলতে মুখ বেঁকাল।

নওয়াজেশ আহমেদের বনফুলের বইতে উজনির হদিস করে জানলাম এর বৈজ্ঞানিক নাম Spilanthes iabadicensis. বাংলায় আরো নাম বনগাঁদা, মারাতিতিগা। গুণও আছে বেশ - দাঁত ব্যথা, মাড়ি আর গলা ফোলা কমাতে পাতার রস খাওয়ানো যায় আর গাছ সিদ্ধ করা পানি কাজে লাগে আমাশয় রুগীর।

সিলেটে আমার বন্ধু অজন্তার উঠানে উজনির ঘন বনের ছবি এগুলো।


আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ


আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ



আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ



আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
অজানা ফুল
হেঁটে হেমায়েতপুর

আকন্দ
আকন্দ কথকতা

উজনি
উজনির ঝিনঝিন

কড়াইশুঁটি
কড়াইশুঁটির বিস্ময়

কাউয়াঠুকরি
ফিবোনাক্কির কেরামতি

কানফুল
শুভ্র কানফুল

চুনিয়াঝোরার ফুল
চুনিয়াঝোরার ফুল

তৃণাক্ষী
তৃণাক্ষী

দাঁতরাঙা
পথের ধারে দাঁতরাঙা

ধূসর, সবুজ ও নীল ফুল
চুনিয়াঝোরায় ধূসর, সবুজ ও নীল

পটল ফুল
বুড়ার দাড়ি

পাঁচ পাপড়ির ফুল
পাঁচ পাপড়ির পদ্য

পুঁতিফুল
পুঁতিফুল

বনদোপাটি
বনদোপাটি?

বেগুনি ফুল
তিন পাপড়ির ফুল

বেগুনি হুরহুরি
আহ্ হুরহুরি!

বেরেলা
বেরেলা, কুরেটা অথবা উরুশিয়া

বড় আমরুল
বড় আমরুল

মায়াংবা ফুল
মায়াংবার মায়ায়

লাইশাক
লাইশাক ও কয়েকটি সকাল

শশাফুল
ব্রহ্মপুত্রে শশাফুল

শেরামণি
শেরামণি ও শার্শার নসুবালা

সাদা ফুল
মডেল পুক

সোনাফুল
চাম্পারাইয়ে থার্টি

হাতিশুঁড় ফুল
হাতিশুঁড়

হালকা বেগুনি ফুল
দাঁতাল

সাপলুডুর অন্যান্য সংখ্যায় প্রকাশিত ফুলসমূহ
Untitled Document