Untitled Document
ফুল
তৃণাক্ষী
- প্রিসিলা রাজ


আলোকচিত্রীঃ প্রিসিলা রাজ

‘আমাদের দেশ পাকিস্তান। এর পূর্ব অংশ অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানে আমাদের বাস। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাকৃতিক দৃশ্য বড় সুন্দর। এর যেদিকে তাকাই সেদিকে সবুজ। এখানে ছয় ঋতুতে কতই না ফুল ফোটে। ঘাসে ঘাসে, বনে বনে নীল, হলুদ, গোলাপী, বেগুনি, লাল, আরো কত রঙের সেসব ফুল। গ্রামের নদীতে মাঝি পাল তুলে নৌকা বেয়ে যায়...’ একাত্তর সালে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া আমার বোনের বাংলা বইয়ের প্রথম লেখাটি অনেকটা এভাবে আমার স্মৃতিতে ছাপ রেখে গেছে। পাঠক, ভাববেন না লেখাটি ঠিক এরকমই ছিল। ঝুলির ভেতর হাত চালিয়ে আমি তার কিছু অনুরণন উদ্ধার করেছি মাত্র। সে বইয়ের আর যা দাগ রেখে গেছে তা হলো এর লালচে ছবিগুলো। বাঁক নেওয়া নদীর মুখে ঢাউস পাল তোলা নৌকা আর পেছনের ভূমিতে তাল-কদলি বৃক্ষ শোভিত ছোট ছোট ঘর, গ্রামের পথে কলসি কাঁখে বৌ Ñ সেই বহুপরিচিত, বহুল চর্চিত ছবি। কিন্তু শুধু বইয়ের কাগজ আর আঁকার মুনশিয়ানার জোরে সে ছবি কী ছাপই না রেখে গেছে। পড়তে শেখার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বইটা আমি বগলদাবা করেছিলাম। প্রায় প্রত্যেকটা গল্প বহুবার পড়তে পড়তে প্রায় কণ্ঠস্থ হয়েছে। ছিল কুকুর আর ঘোড়ার প্রভুভক্তি নিয়ে গল্প। স্বাধীনতার পর ইস্কুলের বাচ্চাদের জন্য যে বই বের হলো সেখানে আর সেই মাধুর্য্য থাকল না। ক্যাটকেটে গল্পের সঙ্গে সাদাকালো আঁচড়ের বিশ্রী সব ছবি। আমার ইস্কুল যাওয়ার আনন্দ অনেকটাই মাটি করেছিল ম্যাড়মেড়ে এসব বই।

প্রকৃতির নিজস্ব চর্চায় প্রস্ফুটিত ফুলের ব্যাপারে আমার যে আগ্রহ তার পেছনে হয়ত বা সে বইয়ের কিছু ভূমিকা রয়েছে। আজ যে ছবিটা দিয়েছি তা চেখে চেখে দেখা ঘাসফুলগুলোর মধ্যে বলা যেতে পারে প্রথম। এদের আবিষ্কার করেছিলাম আমরা যে জংলা বাড়িটায় থাকতে এসেছিলাম সেখানে। বাড়িটাতে বিরাট একটা বিরাট মাঠ ছিল। তার একটা অংশে ছিল উঁচু উঁচু লাল ঢিবি। সেখানে লজ্জাবতীর অসংখ্য ঝোপ আর ছোট কাশফুলের সঙ্গে ঘাসের ফাঁকে ফুটে থাকত অসংখ্য গাঢ় বেগনি ছোট্ট ফুল। সেসময় আমার বয়স আট কি নয়। যে ছয় বছর সেখানে ছিলাম মাঠের আর জঙ্গলের প্রকৃতি আবিষ্কারেই বুঁদ থাকতাম। তার একটা অংশে ছিল দিনের বিভিন্ন সময়ে ঢিবির ওপর উঠে বেগনি ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকা। ক্লাস থ্রির বইয়ের সেই পাঠস্মৃতি আর এই ফুলগুলো যেন আমার মধ্যে একাকার হয়ে আছে।

ঘাসের ফাঁকে মাটি আঁকড়ে, ঘন বিন্যস্ত হয়ে থাকে এ ফুলগুলোর গাছ। সে হিসাবে এটা ‘ঘাসফুল’ নয়।

‘ঘাসফুল’ বললেই লোকে কেন যেন মনে করে এগুলো ঘাসের ফুল। আমি অবশ্য খেয়াল করে দেখেছি ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে যেসব ফুল দেখা যায় তার খুব কমই ঘাসগুলোর ফুল। ফুলগুলোর গাছ আসলে আলাদা, ছোট আর ঘাসের মতো বিস্তৃত নয় বলে অত চোখে পড়ে না। আমার কিন্তু সাধারণ নাম হিসাবে ‘ঘাসফুল’ শব্দটা খুব ভাল লাগে।

লেখক বন্ধু দীপংকর চন্দ বলেছেন নাম না জানলে যেন ফুলগুলোর একটা করে নাম দেই। এ ফুলের নাম রেখেছি ‘তৃণাক্ষী’ - পাঠক, পছন্দ হলো তো?


আলোকচিত্রীঃ প্রিসিলা রাজ
অজানা ফুল
হেঁটে হেমায়েতপুর

আকন্দ
আকন্দ কথকতা

উজনি
উজনির ঝিনঝিন

কড়াইশুঁটি
কড়াইশুঁটির বিস্ময়

কাউয়াঠুকরি
ফিবোনাক্কির কেরামতি

কানফুল
শুভ্র কানফুল

চুনিয়াঝোরার ফুল
চুনিয়াঝোরার ফুল

তৃণাক্ষী
তৃণাক্ষী

দাঁতরাঙা
পথের ধারে দাঁতরাঙা

ধূসর, সবুজ ও নীল ফুল
চুনিয়াঝোরায় ধূসর, সবুজ ও নীল

পটল ফুল
বুড়ার দাড়ি

পাঁচ পাপড়ির ফুল
পাঁচ পাপড়ির পদ্য

পুঁতিফুল
পুঁতিফুল

বনদোপাটি
বনদোপাটি?

বেগুনি ফুল
তিন পাপড়ির ফুল

বেগুনি হুরহুরি
আহ্ হুরহুরি!

বেরেলা
বেরেলা, কুরেটা অথবা উরুশিয়া

বড় আমরুল
বড় আমরুল

মায়াংবা ফুল
মায়াংবার মায়ায়

লাইশাক
লাইশাক ও কয়েকটি সকাল

শশাফুল
ব্রহ্মপুত্রে শশাফুল

শেরামণি
শেরামণি ও শার্শার নসুবালা

সাদা ফুল
মডেল পুক

সোনাফুল
চাম্পারাইয়ে থার্টি

হাতিশুঁড় ফুল
হাতিশুঁড়

হালকা বেগুনি ফুল
দাঁতাল

সাপলুডুর অন্যান্য সংখ্যায় প্রকাশিত ফুলসমূহ
Untitled Document