Untitled Document
বাঙ্গালীর লোক পার্বণ (গার্শি)
- নিখিল চন্দ্র দাস
লোক সাহিত্যর একটি বিশেষ অঙ্গ হল পার্বন। এই পার্বনকে নিয়ে অনেক লোকগান,

লোককথা, লোকছড়া, লোকগল্প লোকনিত্য রচিত হয়েছে বাঙালী সমাজে। কথিত আছে

বারোমাসে ১৩ পার্বণ। বারো মাসে নয় বাঙালীর প্রত্যেক দিনেই একটা পার্বন

আছে। কিছু পার্বন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ধরনের পার্বন হিন্দু,

মুসলমান, নিরক্ষর ও শিক্ষিত উভয় শ্রেণীর মানুষের মধ্যে প্রচলিত আছে।

এমন একটা পার্বন হল গার্শী। আশ্বিন মাসের শেষদিন বাঙালি হিন্দু-মুসলমান

উভয় সম্প্রদায়ের লোক কমবেশী এটা পালন করে থাকে। যারা তান্ত্রিক কবিরাজ,

উঝা, গায়ক তারা সারারাত জেগে গান বাজনা করে তাদের মন্ত্র শক্তিকে জাগিয়ে

তোলে। অনেক রকমের পিঠা ও যার যেমন সাধ্য রান্নাবান্না করে। মাটি দিয়ে

মুছি (প্রদ্বীপ) বানিয়ে প্রত্যেক বাড়ি আলোক শয্যা করে। গোবর দিয়ে উঠান

লেপে লাল ও কালো মাটি গুলিয়ে অনেক রকম আল্পনা তৈরী করে গ্রামের বধুঁরা।

উঠানে আসন পেতে তালের আঠি কাঁচা হলুদ, কাঁচা তেতুল, ওল দেবতার উদ্দেশ্যে

নিবেদন করে। তারপর তেতুল পুঁড়িয়ে হলুদ ও তেল দিয়ে গায়ে মাখে। যাতে কোন

অসুখ না হয়। এরপর চলে অনেক রকম । গান-বাজনার উপকরন ডালা ও কুলা। গার্শির

একটা গান এই রকম-





গার্শির গান



মশা মশা কান কোরেশা কানে বাধা দড়ি

সকল মশা তাড়ায়ে দিলাম কানুর মার বাড়ি

কানুর মা রে খুচে খুচে খা ।।



কচু বুনে মশারে ভাই লম্বা লম্বা হুল

সগল মশা তাড়ায়ে দিলাম বড়ো গাঙের কূল

গাঙের কুলেগে খুচে খুচে খা ।।



কুলাবনে মশারে ভাই মোখে চাপাদাড়ি

সকল মশা তাড়ায়ে দিলাম গেদুর মার বাড়ি

গেদুর মারে খুচে খুচে খা ।।



যশোরের মশা রে ভাই লম্বা লম্বা পাখা

সকল মশা উড়ায়ে দিলাম বরিশাল আর ঢাকা

ঢাকা লেগে খুচে খুচে খা ।।


নিখিল চন্দ্র দাস এর অন্যান্য লেখাসমূহ
Copyright © Life Bangladesh সাপলুডু মূলপাতা | মন্তব্য Contact: shapludu@gmail.com