Untitled Document
বাংলাদেশের পট চিত্র
- নিখিল চন্দ্র দাস





নড়াইল থেকে শিল্পী নিখিল চন্দ্র দাস এর রেকর্ড কৃত পটের গান

লোক চিত্র কলার এক বিশিষ্ট অঙ্গ পট চিত্র। পট চিত্রের উৎস ও সংরক্ষন গ্রাম জনপদের মানুষ। কবে থেকে এই পট চিত্রের সূচনা হয়েছিল সঠিক ভাবে বলা যায় না। আনুমানিক আড়াই হাজার বছর আগে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পট চিত্র ও পটুয়াদের সন্ধান পাওয়া যায়। ঐ সময় বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের যাজকেরা জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মকে কেন্দ্র করে পট এঁকে গ্রামে গ্রামে ধর্ম প্রচার করত কিছু দিন আগেও বাংলাদেশে অনেক ধরনের পট পাওয়া যেত। যা এখন নেই বললেই চলে। এ পটের ভিতর গাজীর পট ও জড়ানো পট বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য।

এই গাজীর পট বাংলাদেশের খুলনা জেলার সুন্দরবন অঞ্চল, বরিশাল, ফরিদপুর, যশোর, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বেশি দেখা যেত। আচার্য্য ব্রাক্ষন নামে এক সম্প্রদায়ের লোক এই গাজীর পট অংকন করত। এই সম্প্রদায়ের কিছু লোক নড়াইলের লোগাগড়া উপজেলায় বসবাস করে। গাজীর পট ছাড়া এরা অষ্ট ধাতু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মূর্তি তৈরী করত। হাত দেখা ছিল তাদের প্রধান পেশা। গ্রহরতœ নির্বাচনের সময় মাটিতে খোটা কেটে বিভিন্ন ধরনের ছবি এঁকে মন্ত্র পাঠ করে গ্রহরত্ন নির্বাচন করত। এই ছবির ভিতর মকর, সর্প, তারা, নক্ষত্র ও বিভিন্ন ধরনের জীব জন্ত দেখা যায়। এখনও এরা এসব করে থাকে। আর এক পট যেটা নড়াইলে, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে দেখা যেত। সেটা হল জড়ানো পট এ পটের বিষয়বস্তু ছির রামায়ন মহা ভারতের কাহিনী, মুক্তি যুদ্ধ সমাজের বিভিন্ন ধরনের ঘটনাবলি ও রঙ্গরস, পটুয়ারা এ সব পট এঁকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে গান গেয়ে এ সব কাহিনী বর্ণনা করত। এখনও নড়াইল নজেলার অনেক জায়গাই এই পটের সন্ধান পাওয়া যায়। যে সব পালেরা প্রতিমা বানায় সাধারনত এরাই পট অংকন করে। নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বেন্দা গ্রামের মাখন পাল এই জড়ানো পট অংকনে বিশেষ পারদর্শী ছিল। মাখন পাল বলল, তাদের ৩-৪ পুরুষ এই পট অংকন করে আসছে। মাখন পালের বয়স প্রায় এখন ৮০ বছর। কালিয়া উপজেলার বাটু দাসের একটা পটের দল ছিল। বাটু দাসের বয়স এখন প্রায় ৭১-৭৫ বছর। তার ঠাকুর দাপদার ও নাকি এই পটের দল ছিল। নড়াইলের স্বভাব কবি বিপিন বিশ্বাস বহু পটের গান রচনা করেছেন।কবে থেকে এই পট গানের শুরু হয়েছে কবির কাছে জানতে চাওয়া হলে বলল, সঠিক ভাবে বলতে পারব না। তবে আমার বাপ, ঠাকুর দাদা ও এই গান গেয়েছে। এক সময় নড়াইল ও ফরিদপুর জেলার প্রতি গ্রামেই দুই একজন পট শিল্পীর দেখা পাওয়া যেত। সাধারনত কাপড়ের উপরে গবর, মাটি লেপে কখনও বা কাপড়ের উপরে তেতুলের বিচির আঁঠার সাথে সাদা খড়ি মাটি মিশিয়ে পটের পাটা তৈরী করে, তেতুলের বিচির আঁঠার সাথে বিভিন্ন অক্সাইড মিশিয়ে রং তৈরী করে পট অংকন করা হত। এক সময় বাংলাদেশের সব জায়গায় এই পট দেখা যেত। ্খন কোথাও এর দেখা পাওয়া যায় না। মানুষের কর্ম ব্যস্ততা যান্ত্রিক সভ্যতা বিদেশী সংস্কৃতি টেলিভিশন, টেলিফোন মোবাইল এর যথেচ্ছা ব্যবহার এর একমাত্র কারণ। আমাদের এ পট চিত্র ও সংস্কৃতি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

চিত্র ১ঃ সংগ্রহীত পট চিত্র
চিত্র ২ঃ নিখিল চন্দ্র দাস এর আঁকা পট চিত্র
নিখিল চন্দ্র দাস এর অন্যান্য লেখাসমূহ
Copyright © Life Bangladesh সাপলুডু মূলপাতা | মন্তব্য Contact: shapludu@gmail.com