Untitled Document
বাংলাদেশের ডাকটিকেটে রবীন্দ্রনাথ
- নিজাম বিশ্বাস
সাধ্যমতো চেষ্টা করেও সার্ধশতের অর্থ উদ্ধার করা গেল না। নিজের অজ্ঞতাকে কটাজ্ঞ করে আরো একবার অভিধান খুললাম, জানা গেল তার অর্থ ‘দেরশত’। এই না হলে ঠাকুর! ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ইশতেহারে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেরশতম জন্মবার্ষিকী যৌথ উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় অন্যান্য আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ২০১১ সালের ৭ মে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

বাংলাদেশের ডাকটিকিটে রবীন্দ্রনাথ এই প্রথম কোন প্রসঙ্গ নয়, কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চার টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট মূদ্রিত হয়েছিল এবং শহীদ বুদ্ধিজীবি সিরিজের গার্টারে স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতাংশ

’’উদয়ের পথে শুনি কার বাণী

ভয় নাই ওরে ভয় নাই

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান

ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই’’

তবে দেরশতম জন্মবর্ষের আয়োজন ছিল বেশ বড়সড়। চারটি স্মারক ডাকটিকিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ ডাকবিভাগের কোন স্যুভেনির শীটে প্রথমবারের মত স্থান পেল কবি ব্যক্তিত্ব। একশ টাকা সমমূল্যের বহুরঙা এ স্যুভেনির শীটে চারটি ডাকটিকিটসহ বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় পতাকা এবং দু’দেশের জাতীয় সংগীত উপজীব্য হয়েছে। ”বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী যৌথ উদযাপন’’ লেখা বিশেষ সীলও পড়েছে ডাকটিকিটের বুকে, একই সাথে ছিল উদ্ভোধনী খাম। ডাকটিকিট প্রকাশকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা উচ্চারণ করলেন, “ ভারত ও বাংলাদেশের সেতুবন্ধ হয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ।” অন্যদিকে ভারতীয় ডাক প্রকাশনায় বাংলাদেশ কিংবা যৌথ উদযাপনের তিলটুকু চিহ্ন নাই।


ফিলাটেলির অভিধানে ‘যৌথ প্রকাশ’ বা ’জয়েন্ট ইস্যু’ বলে কিছু একটা আছে। দুই বা তার অধিক দেশের ডাকবিভাগ যখন একই বিষয় উপজীব্য করে, প্রায় অবিকল নকশায়, একই দিনে যে ডাকটিকিট প্রকাশ করে তাকে বলে যৌথ প্রকাশ। কোন ঘটনা বা ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এ ধরণের ডাকটিকিটে শুধু দেশ ও মুদ্রার ক্ষেত্রে থাকে ভিন্নতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেরশতম জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশ ডাকবিভাগ থেকে প্রকাশিত স্যুভেনির শীট দেখে যৌথ প্রকাশ মনে হয়। দু’দেশের পতাকা তাই ইঙ্গিত করে, কিন্তু ভারতীয় ডাক প্রকাশনায় যৌথ প্রকাশ কিংবা যৌথ উদযাপনের কোন বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।




একশ’ টাকা মূল্যের স্যুভেনির শীটে ডাকটিকিট, পতাকা ও জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি কবির রচিত বিভিন্ন কবিতার অংশ বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে। ভারতীয় জাতীয় সংগীত ও পতাকা বিতর্কের সাথে যুক্ত হয়েছে কবিতায় প্রায় অর্ধডজন ভুল শব্দ

‘গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা
কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা’
’সোনার তরী’ কবিতার এ অংশে ‘গগন’ বানানে ‘ন’-এর পরিবর্তে ‘ণ’, ’ঘন’ বানানে আবারও ‘ণ’ এবং ’ভরসা’ লেখা হয়েছে ‘ভরষা’।
’মরিতে চাহি না আমি এ সুন্দর ভুবনে
মানবের মাঝে আমি বাচিবারে চাই’
’প্রাণ’ কবিতাংশে ’ভুবন’ মূদ্রিত হয়েছে ‘ভূবন’। ’১৪০০ সাল’ কবিতার অংশ বিশেষেও ভুল দেখা যায়-
‘ কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতুহল ভরে।’
কৌতুহল শব্দটি ’কৌতূহল’ লিখে ডাকবিভাগ আমাদের কৌতুহলী করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ডাক প্রকাশনার কবিতায় এতো ক্যারিকেচার আগে কখনো হয়নি। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান ডাকবিভাগ নজরুলের কবিতার একটি শব্দ এলোমেলো করেছিল, আর ২০১১ সালে বাংলাদেশের রবীন্দ্র ডাক প্রকাশনায় ত্রুটিপূর্ণ শব্দ ও যৌথ উদযাপনের নামে একপক্ষীয় যৌথ প্রকাশ ‘সার্ধশত’ শব্দটির গাম্ভির্য ধূলায় মিশালো।
নিজাম বিশ্বাস এর অন্যান্য লেখাসমূহ
Copyright © Life Bangladesh সাপলুডু মূলপাতা | মন্তব্য Contact: shapludu@gmail.com