Untitled Document
বসন্তভোরের অসংলগ্ন ভাব, ভাবনা...
- অনুপ চণ্ডাল
তবুও কোকিল, অবসরহারা আমাদের এ-জীবনের কোনো কোনো ভোরে শুনতে পাই, কুহরিছে। বিদীর্ণক এ কী স্বর! এই পাখি কোকিল তবে! বোকা এই পাখিটিরে ভেঙিয়ে ভেঙিয়ে রাগিয়ে দিয়ে আরও বেশি না ডাকিয়েছ কে তুমি শিশুবেলা? লিলি ফুপু বলেছিল: নাসরিনা, অমন কর যদি, রাতে ঘুমালে ওই পাখি চোখ তুলে নেয়। সেই থেমেছিল নাসরিনা, তবু বহুদিন চোখ বুঁজতে ভয় হত রাতে। তারপর তরুণী হতে হতে এই সেদিন জেনেছে যে ওরই নাম ছিল তো কোকিল, ওরই নাম আজো কোকিল রয়েছে। তবে তো আশা হয়, আরও বহুদিন ঋতুর মাধুরী-ও-রূপ পিয়ে যাব: এ নহে শুধুই রবি ঠাকুরের গান; সকল গানের জন্মস্থান মূর্তিমতি ঋতু তুমি আছ¬- আহা ঋতুমৃত্যু আমরা সইতে পারব না, যেন এ আশঙ্কা আমূল মিথ্যে হয় যেমন নিতান্ত দুঃস্বপ্ন কোনো!

ফাগুনের এমন আরম্ভবেলায় তুমি এসেছিলে, শতের অধিক বৎসর আগে- কতিপয় চিল শুধু বলেছিল, ...। আজ দিন। ২০১১ খ্রীস্টসালের আজ এই ১৭ই ফেব্র“য়ারি দিনে বাঙলার মাঠে এক বিশ্বক্রীড়ার উদ্বোধন- আত্মহারা তাই বাঙলার ঘরে যত ভাইবোন। সেই মাঠে হয় নৃত্যগীতবাদ্যে সংস্কৃতি প্রদর্শন, অতএব রবীন্দ্র-নজরুল কিছু। বলার কথা এই নয় যে জীবনানন্দ দাশ খেলার মাঠে প্রচারযোগ্য প্রসঙ্গ কোনো, কিন্তু এই যে, বিবিধ কোণ হতে এতই যখন দেশ প্রদর্শন এইসব আয়োজনে, তখন, ভাবতে ভাল লাগে, কর্তৃপক্ষের কারো যদি জানা থাকত এবং একটিবার মনে হত আর যদি তিনি বলতেন: বাঙলার মাটিতে আজকের এই বিপুল আয়োজন এক বিশেষ শুভদিনে- যে-ভাষা নিয়ে আমাদের এত না কথা ও কাহিনী, এত অহংকার, সেই ভাষার রবীন্দ্রোত্তর শ্রেষ্ঠতম কবির আজ জন্মদিন...। কিন্তু হায়, এমন প্রত্যাশার মূর্খতা শুধু শোভা পায় নব বসন্তের কোনো অবসর ভোরের আবছায়ায় যখন দিকে দিকে কেবলই কুহু! এখন নাসরিনা জানে, আমাদের দুটি কালো পাখি- কাক ও কোকিল! সকলে জানে না। কবিতা কবে ছিল সকলের?

যা রে ফিরি ঘরে! ভাবছি মধুসুদন। ভাববার বয়েস হয়েছে মনে হয়। লেখা যাবে আর কোনো অবসর ভোরে বা নিদাঘ দিনে অথবা ঘোর অমানিশায়।

লেখাটা তো কিছু নয়- একটা ভাষাশিল্প গড়ে উঠল কি না, সেটাই!
অনুপ চণ্ডাল এর অন্যান্য লেখাসমূহ
Copyright © Life Bangladesh সাপলুডু মূলপাতা | মন্তব্য Contact: shapludu@gmail.com