Untitled Document
নৃত্যে শিব ও চড়কের শিবনৃত্য
- অনুপ চণ্ডাল
যেমন অনাদি অতীতের কোনো অজানা ক্ষণে প্রথম গান জেগেছিল মানুষের মনে এবং সেই হতে তা নিরন্তর বেজে চলেছে মনোমাঝে তেমনই অন্তরে অনুরণিত সুরছন্দ দেহে জাগায়েছিল বিচিত্র ভঙ্গিমা এবং আজিও জাগায়ে যেতেছে তা- হৃদয়াবেগ হেতু ছন্দসুষমাময় এই দেহভঙ্গিমাই তো নৃত্য, আর কি! আবারও তবে দেখ, প্রাণ ও দেহ একাকার-অভেদ: প্রাণের বেদনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারিলে কখনো তা দেহছন্দে প্রকাশে, নৃত্য যার নাম। তবে তো আদিনৃত্য কারো ইচ্ছাসৃষ্ট নয়- সে হয় স্বয়ম্ভু, সে স্বতঃস্ফূর্ত, স্বয়ম্প্রকাশিত।
গবেষক বলছেন: “Dance is the mother of all Arts. Music and Poetry exist in time; Painting and Architecture in space. But the Dance lives at once in time and space. The creator and the thing created, the artist and the work are still one and the same thing. Rhythmical patterns of movement, the plastic sense for space, the vivid representation of a world seen and imagined- these things man creates in his own body in the Dance before he uses substance and stone and word to give expression to his inner experience.” (World History of Dance: Court Sachs)
অন্যভাবে আর-একজন গবেষক: “The three arts of Dancing, Music and Poetry began as one. The source was the rhythmical movement of human bodies engaged in Collective labour. This movement had two Components-Corporal and Oral. The first was the germ of Dancing, the second of Language.” (Marxism and Poetry: George Thomson)

বিদগ্ধ গবেষক ও বিমুগ্ধ রসিক উভয়েই সহমত যে নৃত্য এক আদিতম শিল্প। আর এমন গহীন প্রাচীনতার সাথে পৌরাণিকতার যোগ থাকবেই-থাকবে শাস্ত্র-সংযোগ। এই সূত্রে, নৃত্য উচ্চারণমাত্রই শিবমূর্তি দেখা দেয়। বহুভূজ এক নৃত্যরত পুরুষ-নটরাজ! যদিও এই নটরাজমূর্তি নৃত্যশিল্পীদের আদি গুরু তবু তাঁকেই প্রথম নৃত্যোদ্ভাবক কল্পনা করা যুক্তিবিরুদ্ধ। কারণ নৃত্য বিরাজিত ছিলই জীবনে, প্রকৃতির রীতি মতে। তবে মহাদেবের উজ্জ্বল ভূমিকা মূলত নৃত্যকে সুবিন্যস্ত কলা রূপে প্রয়োগে, প্রতিষ্ঠায়। তাঁর এই ভূমিকা সুস্পষ্ট লিখিত ভরত মুনির নাট্যশাস্ত্র গ্রন্থে। নাট্যকলা, যা ছিল স্বর্গের সম্পদ, মর্তে প্রয়োগের জন্য ভরত মুনিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্রহ্মা। “নাট্যশাস্ত্রীয় ঐতিহ্যে ‘অমৃত মন্থন’ ও ‘ত্রিপুরদাহ’ নামে দুটি নাট্যই আদ্যতন। পূর্বরঙ্গে এবং নাট্যে কি প্রকার উপলক্ষে উৎকৃষ্ট নৃত্তের যোজনা প্রথম উপদেশ করা হয়েছিল, এই কাহিনীর মধ্যে সেই উপলক্ষের বীজশ্র“তি আছে। কিন্তু এই ঘটনাকে নৃত্তোৎপত্তি বলা যায় না। অনদিকাল থেকে নৃত্ত চেষ্টা বর্তমান। ভরত মুনি প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। “সৃষ্টির আদিতে সর্বপ্রথম কে নৃত্ত উদ্ভাবিত করেছিল” ইত্যাকার মূঢ় প্রশ্নে তিনি মহাদেবকে বিরক্ত করেন নি। মহাদেবও নির্বোধ ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি বলেন নি যে তিনিই প্রথম নৃত্তোদ্ভাবক। বরং তাঁর কথার ভাবে বোঝা যায় (১) ত্রিপুরদাহের ঐতিহ্য মহাদেব জানতেন, (২)মহাদেব লোকনৃত্তের অতিরিক্ত বিশিষ্ট এমন নৃত্ত ও নাট্য পদ্ধতি অবগত ছিলেন, যা ব্রহ্মা ও ভরত জানতেন না এবং (৩) মহাদেব নিজেই নৃত্ত শিল্পী ছিলেন। নাট্যশাস্ত্রীয় ঐতিহ্যে ভরতমুনি তণ্ডুর নিকট অঙ্গহার নৃত্তের শিক্ষাদীক্ষা লাভ করেছিলেন; তণ্ডু স্বয়ং মহাদেবের শিষ্য ছিলেন।” (নাট্যশাস্ত্রে নৃত্ত ও নৃত্য: অমিয়নাথ সান্যাল)। অর্থাৎ বহুশ্র“ত যে-তাণ্ডবনৃত্য তা বস্তুত শিব-শিষ্য তণ্ডুর নামানুসারেই। গায়ত্রী চট্টোপাধ্যায় চমৎকার বলেন: “নটরাজকে আমরা নাট্যশাস্ত্রের বর্ণনানুসারেই একজন টোটাল কোরিওগ্রাফার রূপে কল্পনা করতে পারি। তণ্ডু তাঁর সহযোগী নির্বাহক।”
“সাধারণ অর্থে ‘তাণ্ডব’ শব্দটি আমাদের কাছে ‘সদর্থক’ নয়। এ যেন এক শৃঙ্খলাহীন, ভীতি ও বিতৃষ্ণা সঞ্চারক উন্মত্ত নর্তনভঙ্গীর ছবি তুলে ধরে। অথচ এই নৃত্য নটরাজ সম্পৃক্ত-কাজেই এ ধরনের পর্যায়ের পূর্বরঙ্গ অনুষ্ঠানে করণ অঙ্গহার সমন্বিত মহাদেব সৃষ্ট যে শুদ্ধ ও চিত্র সম্পাদনের নির্দেশ আছে, তা উদ্দাম অঙ্গবিক্ষেপ নয়। বিধিবদ্ধ অনুশীলিত ও পরিশীলিত অভিজাত ললিত কলা। তাণ্ডব নৃত্যে সঙ্গীতের প্রয়োগবিধিও বিশেষ ভাবে লক্ষনীয়। উচ্চাঙ্গ সুর, সমৃদ্ধ ও তাললয় সমন্বিত গীতবাদ্যের কুশলী প্রয়োগ তাণ্ডব নৃত্যের বৈশিষ্ট্য। এককথায় বলা যেতে পারে তাণ্ডব বিধি একটি সুশৃঙ্খল সমৃদ্ধ নর্তনলীলা।” (নৃত্যদর্পন : গায়ত্রী চট্টোপাধ্যায়)

নটরাজ ও তাঁর নৃত্যের জয়গান রাশি রাশি সাহিত্যে সঙ্গীতে। প্রতিমা দেবী: “শিবের তাণ্ডব হল সেই বিশ্বব্যাপী সৃষ্টিশক্তির প্রত্যক্ষ রূপ। তার মধ্যে সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের আবর্ত আমরা দেখি, তাণ্ডবের প্রতি পদক্ষেপের ছন্দে পৃথিবীর ধূলিকণাও যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। মানুষের কল্পনা যে কত গভীরভাবে এ্যাবস্ট্রক্টকে নিরুদ্দেশকে অনুভব করতে পারে শিবের তাণ্ডবে তারই অদ্ভুত প্রকাশ।”

কিন্তু এ-পর্যন্ত হল যা কথা সে কেবল নৃত্যকলার সাথে শিব-সম্পর্কের একটা সরলীকৃত সারাংশ, কতিপয় গ্রন্থের সহযোগিতায়। এই উচ্চাঙ্গ নটরাজ লোকায়ত জীবনে কীরূপে যুক্ত-চড়কের মত নিুবর্গীয় পুজোয় তাঁর ভজনা কেমন, এইবেলা আমরা তা দেখে নিই ক্ষুদ্র প্রয়াসে, স্বল্প পরিসরে।

চড়ক পুজো মহাদেব শিবেরই পুজো। আমাদের মনে পড়বে: “শিব প্রাক বৈদিক যুগের দেবতা। আর্য সভ্যতায় ও পরে তাঁর স্থান সুপ্রতিষ্টিত। শিব যে জাতির প্রতিভূ সে জাতির বৈদিক নাম রুদ্র। তাঁরা আর্য ছিলেন না এবং বেদে তাঁরা দেবতা শ্রেণীর মধ্যে স্থান পাননি। এদের বলা হত দেবজন; মরুৎ, গণ প্রভৃতি গোষ্ঠী এই রুদ্র জাতির অন্তর্ভুক্ত । এদের ধনুর নাম পিনাক। রুদ্র সম্প্রদায়ে যৌথ ও একক নৃত্য উভয়েরই প্রচলন ছিল। রুদ্রেরা হিমালয় অঞ্চলে থাকতেন। নানারকম সংহার পর্ব এদের অনুষ্ঠানের অঙ্গ ছিল।” (নৃত্যদর্পন: গায়ত্রী চট্টোপাধ্যায়) অতএব শিবের সাথে নিুবর্গের সম্পর্ক সূচনা থেকেই। আর নিুবর্গীয় জীবনে শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীত উচ্চবর্গীয় পরিশীলন-প্রমিতি থেকে দূরে এক বিশিষ্ট রূপ হয়ে রয় বরাবরই। চড়কের নৃত্যগীতও তেমনই। চড়ক পুজোর পাটনাচ ও বালাইগানের নিজস্বতা যেমন রয়েছে তেমনি এটাও স্বাভাবিক যে লোকনৃত্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলিও এখানে লক্ষিত হবে। আমরা দেখে নিই অনিন্দিতা ঘোষ তাঁর ‘ভরতনাট্যম ও ওড়িষী নৃত্যের রূপারেখা’ গ্রন্থে লোকনৃত্যের বৈশিষ্ট্য যেভাবে একত্র করেছেন-
“লোকনৃত্যের নিুলিখিত সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যঃ
(১) লোকনৃত্য যুথবদ্ধ নৃত্য।
(২) অনাড়ম্বর বেশভূষা।
(৩) সরল নৃত্য। এতে কোনও মুদ্রা বা প্রতীক ব্যঞ্জনা নেই।
(৪) আবেগই মুখ্য। মনের স্বাভবিক আবেগ থেকেই দেহ-কাঠামো এখানে দোলায়িত হয়ে ওঠে।
(৫) বাদ্যযন্ত্রাদির পারিপাট্য নেই।
(৬) নৃত্যের সঙ্গে কন্ঠসংগীত আবশ্যিক।
(৭) গান এবং নৃত্যে বৈচিত্রের অভাব।
(৮) শিক্ষিত পটুত্বের প্রয়োজন হয় না।”

এখন এই বৈশিষ্ট্যসমূহের আলোকে দেখলে চড়কের পাটনাচ ও বালাই গানের সাধারণ পরিচয় বোঝা যায়। এর বিশেষ পরিচয় বুঝতে, বালাই বাহুল্য, একে দেখা-শোনা চাই যেহেতু নৃত্য দৃশ্য শিল্প, গান শ্রব্য। কিন্তু তবুও চড়কপুজোর সাধারণ বিবরণ সুত্রে আমরা এখানে নৃত্যগীত-অনুষঙ্গ কিছু তুলে ধরি।

লোকবিশ্বাস এমন যে এই পুজোর সূচনা সত্য যুগে। হিমালয়ের পাদদেশে উজ্জয়িনী নগরে রাজা কাকসেন মহাজন স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হন যে মহাদেব আসতে চান তার ঘরে। কীভাবে? “নদীর ঘাটে দেখা দেব! একটা নিমের ডাল ভেসে আসবে-তা দিয়ে পাট বানায়ে পুজো দিস!” আদেশ মত, কাকসেন ঘাটে যান, কাঠ পান-প্রচলন হয় পাট বানিয়ে পুজোর।

পাট এই যে সরু এক খণ্ড কাঠকে নৌকার আকৃতি দেয়া হয় এবং তেল সিঁদুর ও অন্যান্য উপাচারে তার পূজা করে তাকে মাথায় নিয়ে চলে নাচ আর গান। বাদ্য ঢাক ও কাসর। অসংস্কৃত মন্ত্র পাঠ করে যিনি এই পুজো পরিচালনা করেন তাকে বলা হয় বালা। তিনি নির্দেশক আর তার সহযোগী দু-তিন জনের একটি গায়কদল। বাদ্য ঢাক ও কাসর! ঢাকের সুর দুর্গাপূজা বা কালীপূজার মত নয়, এই ঢাকে চৈত্রের খরার সুর যেহেতু চৈত্র শেষে বছরের শেষ দুই দিনে এই পুজো। আর থাকে একদল সন্ন্যাসী-কমপক্ষে ষোল, যাদের মধ্যে একজন, ‘ভোগ মটুক’ যার পরিচয়, শিবকে পুজো ও ভোগ দেয়ার প্রধান অধিকারী।

পুজোর পর্বগুলো দেখা যাক। শুরু রাতে-চৈত্রের শেষ দুই দিনের আগের রাতে। গ্রামের কোনো একটি বাড়ির গোয়ালঘরে সারা বছর শয়ন করে রয় এই পাট। এই রাতে বালা-সন্ন্যাসীরা মিলে তারে জাগায়:
এগার মাস ছিলে পাট নিদ্রা শয়ন ঘরে।
চৈত্র মাস মধু মাস. শিব পূজা করে।।
নিদ্রা হইতে উঠ পাট ভক্তের কারণ।
তোমার পরে বসিবেন দেব ত্রিলোচন।।
পবিত্র তোমার দেহ, তুমি মহাশয়।
পাট বাঁচ জেগে উঠ শিবের কৃপায়।।
ষোল সাং সন্ন্যাসী-বালা কৃতাঞ্জলি করি।
সহস্র প্রণাম করে পাটের উপরি।।
এইভাবে আরও শ্লোক আর গানে গানে নাচে নাচে জাগানো হয় পাটেরে। স্নান করানো হয়, নিয়ে গিয়ে স্থাপন করা হয় পূজাস্থানে যা কোনো শ্মশান কিম্বা সুপ্রাচীন বৃক্ষতল। তাকে ঘিরে নানা ক্রিয়াকর্মের মধ্যে দিয়ে জেগে রয় বালা-সন্ন্যাসীরা-চলে নৃত্য-গীত-বাদ্য।

দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে চলে পাটনৃত্য-পাট মাথায় নিয়ে ঢাকের তালে নেচে নেচে বাড়ির উঠোনে উঠোনে ঘোরা। গৃহবধূরা তেল-সিঁদুর চাল-ফল-সবজী আর উলুধ্বনিতে পাটেরে পুজো দেয়। এমনি করে বিকেল হয়। খেজুর ভাঙা! একটা খেজুর গাছ, নির্ধারিত যে শুধু পুজোর জন্যেই, ঘিরে বসে বালা-সন্ন্যাসীরা-সাজায় ফুল-বেলপাতা-নৈবেদ্য। উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকের বাদ্য-পায়ে ঘুঙুরবাঁধা বালা নেচে নেচে বলে যায় শ্লোক-গান আর সমবেত সন্ন্যাসীরা ধ্বনি তোলে ‘বোলে-এ-এ-এ শিবল মহাদেব জয় শিব!’ ঢাকের বাদ্য আরও আরও তুমুল হতে থাকে আর চলে পূজাবিধি পালন-আগুনে ধূপ নেচে নেচে...। এক সময় তীব্র বেগে কয়েকজন সন্ন্যাসী উঠে যায় খেজুর গাছটির মাথায়-নিচে বাজে ঢাক আর ধ্বনি ‘বোলে-এ-এ-এ শিবল মহাদেব-জয় শিব!’ গাছের ওপর থেকে কাঁচা খেজুর ভেঙে সন্ন্যাসীরা নিচে ছুঁড়ে দেয় আর সমবেত সাধারণ মানুষ ভক্তি ভরে ধরে নেয় তা।...

রাতে হাজরাভাটা। শ্মশানচারী শিব ও তাঁর চেলাবেলাদের জন্যে ভোগের আয়োজন। তাই থাকতে হয শাল-শোল-মদ-গাঁজা-কাঁঠালাদি বারোভাজা! রন্ধন শেষে পরিবেশন অদ্ভুত! ভোগ মটুক খাদ্যপাত্র মাথায় নিয়ে ছুটছে ছুটছে,বালা-সন্ন্যাসীরা ছুটছে ছুটছে ... কোথাও কোনো দূরের বটতলায় গিয়ে পড়ল এই ভোগ-সেখানে কলাপাতায় পরিবেশ করা হল শিব ও তাঁর সঙ্গীদের । এর নাম উড়ো ভোগ । আবার, উড়ো না-ও হতে পারে ভোগ-যেখানে মূল পূজা সেখাওে ভোগ পরিবেশিত হতে পারে। পরিবেশন বিধি তবে একই।

তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় মালঞ্চ ভাঙা। আহ, কী অদ্ভুত ! কাঁচা খেজুর পাতা দিয়ে গড়া হয়েছে একটা কুঞ্জ। খেজুর পাতার ডগার সামান্য কাঁটায় বিঁধিয়ে দেয়া হয়েছে বিচিত্র ফুল। এটা কী হল? ফুল ফোটানোর খেলা! হ্যাঁ, ফুল ফোটানো- ফুলের সৃষ্টি করা। কেন? মহাদেবের পূজার উদ্দেশ্যে! হ্যাঁ, এবার নেচে নেচে ফুল তোলা ফুল তোলা! আর এই মালঞ্চের পাশেই নিচেতে মাটিতে ও কে? আঃ-মহাদেব! কাদামাটিতে গড়া বিরাট এক মহাদেব মূর্তি ভূমিতে শায়িত। কিন্তু এ-ই শেষ নয়-এই কর্দমমূর্তিকে ঘিরে মহা আনন্দ-উল্লাস। কেনো এই আনন্দ, কেনো এত উল্লাস? আহা, এ-আনন্দ ফসল ফলানোর-শস্যের সুখোল্লাস! হ্যাঁ, সকল জীব ও শস্যের সৃজন ও লালন কর্তা মহাদেব, তাই এই শিবের গায়ে ধান বুনে সেই মুর্তিভাঙা কাদামাটির ওপর চাষের রগড়-খেলা চলে-ঢাকের সুরে নেচে নেচে, কাদামাটি গায়ে মেখে মেখে!

শিব-নাচের রাজা শিব: চড়ক-শিবের পুজো-এ এক সরল নাচের পুজো ।

সহায়তা:
১। নৃত্যশাস্ত্র: গায়ত্রী চট্টোপাধ্যায়
২। নৃত্যদর্পন: গায়ত্রী চট্টোপাধ্যায়
৩। ভরত নাট্যম ও ওড়িষী নৃত্যের রূপরেখা: অনিন্দিতা ঘোষ
৪। কথক নৃত্য: শ্রী প্রহ্লাদ দাস
অনুপ চণ্ডাল এর অন্যান্য লেখাসমূহ
Copyright © Life Bangladesh সাপলুডু মূলপাতা | মন্তব্য Contact: shapludu@gmail.com