Untitled Document
ইলিশ
- নিজাম বিশ্বাস
বঙ্গ বদ্বীপের সমুদ্রঘেঁষা দ্বীপাঞ্চল পটুয়াখালী। এই জেলার রাঙ্গাবালি উপজেলা মিশে গেছে বঙ্গপসাগরের লোনাজলে। রাঙ্গাবালি, বড় বাইশদিয়া, ছোট বাইশদিয়া, চর মমতাজ ও চালতাবুনিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গড়ে উঠেছে উপজেলাটি। এক সময়ের পর্তুগীজ জলদস্যুদের আক্রমন, আরাকান থেকে আসা রাখাইন সম্প্রদায় ও স্থানীয় জনগনের মিথস্ক্রিয়ায় এ অঞ্চলে এক ভিন্ন সাংস্কৃতিক আবহ। সমুদ্রে মৎস্য শিকার, একই সাথে কৃষিকাজ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম।

রাঙ্গাবালি দ্বীপের ২ মাইল দক্ষিনে 'চর তুফানিয়া'। মৃদু মন্দ বাতাসের দিনেও এখানে বয়ে যায় তুমুল ঝড় তুফান। জোয়ারের গর্জন আর বাতাসের সো সো শব্দের মুখে দাঁড়িয়ে আছে জেলে পাড়ার কয়েকটি ছনের ঘর। গভীর সমুদ্রে ইলিশ শিকারের জন্য ঘর ছাড়া জেলে সম্প্রদায় এ দ্বীপে আশ্রয় নেয়। মাছ ধরার নৌকা, জাল, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুদ থাকে এই তুফানের চরে। বাংলাদেশ বন বিভাগের একটি বাংলো আর জেলেদের কয়েকটি খুপটি ঘর ছাড়া এ দ্বীপে আর কোন বসতী গড়ে ওঠেনি। শেয়াল, সাপ, কাঁকরা, শামুক, ঝিনুক, সামুদ্রিক পাখি আর জেলেদের পোষা কয়েকটি কুকুর দ্বীপের অন্যান্য বাসিন্দা। মাছ ধরার নৌকা আর বিদেশি জাহাজের আলো ভেসে ওঠে রাতের দ্বীপে। বালুতীরে এসে ভিড় করে মরা মাছ - বিয়ারের ক্যান আর ফেনা।

চর তুফানিয়ার দক্ষিনে এক ডুবোদ্বীপ। জোয়ারের স্রোতে এ দ্বীপের অস্তিত্ব কেবল সাগরের জল, ভাঁটার টানে জেগে ওঠে আশ্চর্য সুন্দর মাটির দেশ। পাখির চোখে মনে হবে সাগরের বুকে জেলি মাখা ব্রেড। চোখের রেটিনায় এরপরই ধরা পড়বে অসংখ্য লাল কাঁকড়া। লাল কাঁকড়া আর গাঙচিলের অভয় আরণ্য এই ডুবোদ্বীপ। চর তুফানিয়ায় আশ্রয় নেয়া জেলেরা প্রান্তিক মৎস্য শিকারী। জীবন বাজি রেখে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরলেও তাদের আর স্বাদ নেয়া হয়না এই সুস্বাদু মাছের! মহাজনের জাল-নৌকার হিসেব কষতেই বছর পার- ইলিশের মৌসুম থাকে বছরে মোটে ৫ মাস, বাকি ৭ মাস তাদের কাটে কৃষিকাজে। এই দ্বীপবাসী জন্ম পরম্পরায় মৎস্য শিকার ও কৃষিকাজে নিয়োজিত। ঝড়-জলসচ্ছাসের মুখোমুখি মুখগুলো প্রতিনিয়ত স্বপ্নচ্রুত হয় আবার নতুন সপ্নের অঙ্গুরদম অবিরত।

লিঙ্কঃ বিস্তারিত ছবির প্রদর্শনী
নিজাম বিশ্বাস এর অন্যান্য লেখাসমূহ
Copyright © Life Bangladesh সাপলুডু মূলপাতা | মন্তব্য Contact: shapludu@gmail.com