Untitled Document


মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে লেখক অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানী কর্নেল নাদের আলী


      বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধঃ এনবিসি(NBC) নিউজ ফুটেজ

প্রথম আলো’র ১২ই ডিসেম্বর সংখ্যায় “একাত্তরের ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে আমি মাফ চেয়ে নিচ্ছি” শীর্ষক একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। লেখক অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানী কর্নেল নাদের আলী যিনি একাত্তরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। সম্পাদকীয় বক্তব্য অনুযায়ী লেখাটি নাদের আলীর একটি নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর। নিবন্ধটি এ বছরের ১৬ই মার্চ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এক সেমিনারে তিনি পাঠ করেন। লেখাটি পড়ে আমাদের মনে কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছে যা পাঠকদের জানানো প্রয়োজন মনে করেছি।

নাদের আলী জানিয়েছেন তিনি একাত্তরে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে ছিলেন। নিজের সম্পর্কে জানিয়েছেন তিনি সে বছর ১০ই এপ্রিল ৩ নম্বর কমান্ডো ব্যাটালিয়নের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব নেন। ৬ই জুন তাঁর ওপর আরো গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়, তিনি ঐ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হন। সে বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে তাঁর পদোন্নতি হয়, তিনি কর্নেল হন। দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ তাঁর কেরিয়ার গ্রাফকে ক্রমাগত ওপরের দিকে নিয়ে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, পাকবাহিনী যে সময়টা বাংলাদেশে বর্বরতম অভিযান চালাচ্ছে সে সময়ে তিনি কী করে একটা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে হাত গুটিয়ে বসে রইলেন, আবার সেজন্য তাঁর পদোন্নতিও ঘটল? উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতই অপদার্থ ছিলেন যে নাদের আলী কোনো হত্যা-লুটতরাজে যে অংশ নিচ্ছেন না সেটা লক্ষ্য না করেই তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে দিলেন। দেখা যাচ্ছে প্রথম আলো এই অবিশ্বাস্য ঘটনা বিশ্বাস করে শুধু যে ছেপেইছে তা না, তারা সম্পাদকীয় টীকাতে সেই বক্তব্যকে ‘এনডোর্স’ করেছে এই বলে যে তিনি পাকবাহিনীর একজন ব্যতিক্রমী কর্মকর্তা যিনি বেসামরিক জনগণের ওপর নির্যাতন চালাননি।

আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বেসামরিক জনগণের ওপর নাদের আলী চড়াও হননি, তবে কি তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান রাইফেল্স্, পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং তাঁদের হত্যা করেছেন? নিবন্ধটিতে সে ধরনের একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত যেন রয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে, যদি তিনি বেসামরিক জনগণ বাদ দিয়ে কেবল পুলিশ, ইপিআর ও সেনা সদস্যদের হত্যা করে থাকেন তবে সেটি তিনি এড়িয়ে গেলেন কেন? নিজের কৃতকর্ম স্বীকারের সৎসাহস নেই নাকি ‘ফোর্স’এর প্রাক্তন সদস্য হিসাবে তা গোপন রাখতে তিনি বাধ্য? এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা বা তাঁদের হত্যা করার বিষয়টি কি তাঁদের কাছে অস্ত্র ছিল এ যুক্তিতে যায়েজ করা যায়?

এ প্রশ্নগুলোর মীমাংসা করার সময় আমাদের মনে রাখতে হবে নাদের আলী সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ হিসাবে কাজ করেছেন যা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ন্যায় দাবির মর্যাদা রাখেনি, উল্টো তাদের দাবিয়ে রাখতে সামরিক বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যে নাদের আলীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন সেটা একান্ত আত্মরক্ষার্থে, তাঁদের বিরুদ্ধে পাকসেনাদের হত্যা অভিযান চলবে এ বার্তাটি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর। সুতরাং পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক জনগণের ওপর শুধু নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা ও নিপীড়নের জবাবদিহিতাও পাকবাহিনীর সদস্যদের করতে হবে।

যুদ্ধে দালালির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ফরিদপুর-পাবনা রোডের ঘটনার কথা বলেছেন যেখানে গ্রামবাসী আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে টেনে-হিঁচড়ে নাদের আলী বাহিনীর সামনে নিয়ে এসেছিল এবং নাদের আলী তাকে ছেড়ে দিলেও গ্রামবাসীই তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্ভব হয়েছিল দেশের গ্রামগুলো থেকে সাধারণ কৃষক-মজুরের ছেলেরা যুদ্ধে গিয়েছিল আর গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে সেই যোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়েছিল বলে। নাদের আলী যখন বলেন মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক এক তরুণকে গ্রামবাসীই ধরিয়ে দিয়েছিল এবং মেরেও ফেলতে চেয়েছিল কেবল পাকবাহিনীর প্রিয়ভাজন হতে কতটা বিশ্বাসযোগ্য সেই বয়ান? ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে তবে তা ঐ এলাকার কতিপয় পাকিস্তানপন্থীর কীর্তিই হওয়ার কথা। কর্নেল সায়েব পুরো গ্রামবাসীর ঘাড়ে সেই দায় চাপানোর আগে কি ভেবে দেখেছেন তিনি কী বলছেন? তিনি কি বুঝতে পেরেছেন এ কথা বলে এদেশের সাধারণ মানুষকে কতটা অপমান করা হয়েছে?

তবে নাদের আলীর যে বক্তব্য আমাদের কলম ধরতে মূলতঃ বাধ্য করেছে তা হলো তিনি বলেছেন মুক্তিযুদ্ধে মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হয়েছে। এ কথা বলার দুঃসাহস কোত্থেকে পেলেন এই পাকসেনা? স্তম্ভিত হয়ে গেছি তাঁর স্পর্ধা দেখে।

এ কথা আমরা সকলেই জানি মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ মানুষের শহীদ হওয়ার কথা যে বলা হয় তার কোনো পরিসংখ্যানগত ভিত্তি পাওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারগুলোর এবং সার্বিকভাবে জনগণের অনেক ব্যর্থতার একটি মুক্তিযুদ্ধে মৃতদের তালিকা করতে না পারা। কিন্তু তার অর্থ কি এই যে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা তিরিশ লাখের কম? যদি আমরা প্রকৃত হিসাবটি করতে পারতাম তবে সে সংখ্যা তো আরো বেশিও হতে পারত?

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিরোধে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়া শত্রুবাহিনীর এক সেনার এ বক্তব্য প্রথম আলো কী করে বিনা প্রতিবাদে ছাপল সেটা ভেবে আমরা আশ্চর্য হয়েছি।

নাদের আলী মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাতে নিজের সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের সৈন্যদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে দু’য়েকটা কথা বলছি। শত্রু নিধনের প্রয়োজন ও উন্মাদনা এবং আত্মরক্ষার চরম মরিয়া চেষ্টায় এসব সৈন্য ছোট শিশু থেকে শুরু করে সকলকেই নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন। যুদ্ধ শেষ হলে পরে এদের অনেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মানসিক প্রতিবন্ধিত্বে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অনেকে স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতেই পারেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সামাজিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা তো বটেই, বহু সাহিত্যকর্ম আর সিনেমায় সেই ভয়াবহ বাস্তবতা উঠে এসেছে।

কেন তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তা নাদের আলীই জানেন। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণ একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানে হত্যা-ধর্ষণ-লুণ্ঠনের অপরাধ ক্রমাগত অস্বীকার করতে গিয়ে পুরো পাকিস্তান রাষ্ট্রটিই যেন সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই রোগ সারানোর একমাত্র পথ নিজের অপরাধ স্বীকার - সেটি রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানকে যেমন করতে হবে, তেমনি করতে হবে ব্যক্তিকেও।

নিবন্ধের শেষে এসে তিনি যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাঁধে সব ভুলের দায় চাপাতে চাইলেন আমাদের প্রশ্ন আছে সেখানেও। ‘যেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করেন’ তাঁদের পরিহার করতে আহ্বান করেছেন কর্নেল সায়েব। পরিপ্রেক্ষিত থেকে মনে হয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বলতে তিনি বেসামরিক নেতৃত্বকেই বুঝিয়েছেন। যে দেশের চৌষট্টি বছরের ইতিহাসে চল্লিশ বছর কেটে গেছে সেনাশাসনে, যে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির প্রত্যেক খাত প্রাক্তন ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তাদের দখলে, যে দেশের জনগণকে সাম্প্রদায়িকতার এক অন্ধ গহ্বর থেকে নিবিড়তর তিমিরে নিক্ষেপ করেছে তার সেনা নেতৃত্ব, সে দেশের ব্যর্থতার দায়ভার সামরিক বাহিনী কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।


এ প্রসঙ্গে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার বলে মনে করছি। বেশ কিছুদিন হয় লক্ষ করছি, বাংলাদেশের আকাশে একদল বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিসেবী ইত্যাদির উদয় হয়েছে যাঁরা বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য আপাতদৃষ্টিতে মহৎ সন্দেহ নেই কিন্তু এঁদের অনেকের পারিবারিক ইতিহাস ও রাজনৈতিক দর্শনের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে কিছু প্রশ্ন চলে আসে। এঁদের অনেকের বাবা-কাকা-মামা পাকবাহিনীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছিলেন, একাত্তরে বিশেষ করে হিন্দু নির্যাতন এবং তাঁদের সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব বুদ্ধিজীবী নিজেদের পরিবারের এই রাজাকার সংযোগ সযতনে লুকিয়ে রাখেন। সাম্প্রদায়িকতা মোকাবেলা করে এদেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য ভূখ-টিকে নিরাপদ করা যে বাংলাদেশ আন্দোলনের অন্যতম মূল সুর এসব বুদ্ধিজীবী হয় তাকে অস্বীকার করেন অথবা তাকে পাশ কাটিয়ে যান। তাঁদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি মুসলমানের রাজনৈতিক আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ যার সোজাসাপটা অর্থ এদেশে বাঙালি মুসলমানের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।

ফলে মুসলমান আধিপত্যের রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য স্থাপন করতে চাওয়া তাঁদের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তান ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত চক্ষুলজ্জার খাতিরে হলেও তার সঙ্গে গলাগলিটা বেশ জমিয়ে করে উঠতে পারছেন না তাঁরা। বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া মাত্র পাকিস্তানের গলায় ঝুলে পড়ার ক্ষেত্রে তাঁদের আর কোনো বাধা থাকবে না।


পাকিস্তান এখন ভেতরে-বাইরে সঙ্ঘাতে সঙ্ঘাতে জরাজীর্ণ এক রাষ্ট্র। আজন্ম যুক্তরাষ্ট্রের পদলেহন, ভারত জুজু, ঠুনকো মুসলমানিত্ব হারানোর ভয়, প্রবল শ্রেণীবিভাজিত সমাজ আর সেনাশাসন - তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্তিত্বের সার এই। নেতির এই প্রবল বলয় থেকে তাকে বেরিয়ে আসতে হলে নিজের ভুলের মুখোমুখি পাকিস্তানকে দাঁড়াতেই হবে। আর সেজন্য একাত্তরে পূর্ব ভূখ-ে যে নিপীড়ন তারা চালিয়েছিল তাকে তা স্বীকার করতে হবে। এ স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষেত্রে যেমন অনিবার্য, তেমনি জনগণের ক্ষেত্রেও অনিবার্য কেননা পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের সমর্থন ছাড়া সরকার সেই হত্যা ও ধ্বংসলীলা চালাতে পারত না।

আমাদের বাংলাদেশের মানুষের মনে রাখা দরকার পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনা আমাদের জন্য যত না জরুরি তার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি পাকিস্তানের নিজের জন্য। এবং শুধু ক্ষমা প্রার্থনাই নয়, যারা এই হত্যালীলার দিকে দেশটিকে ঠেলে দিয়েছিল তাদের বিচারের দাবি সে দেশের জনগণকেই তুলতে হবে এবং বিচার করতে হবে। নিজেদের রাজনৈতিক-সামাজিক দেউলিয়াত্ব থেকে মুক্তি পেতে হলে এর কোনো বিকল্প তাঁদের সামনে নেই।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সামনে চারটি কর্তব্য - এক, পাকিস্তান যেন ক্ষমা প্রার্থনা করে সেই দাবি দৃঢ়তার সঙ্গে জারি রাখা, দুই, পাকিস্তানের প্রকৃত গণতন্ত্রকামী অসাম্প্রদায়িক শক্তি তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন তাদের প্রতি সমর্থন জোরদার করা, তাদের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি করা ও তাদের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করা, তিন, একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাগ্রসর, মানবিক বোধে বলীয়ান যে কয়েকটি মানুষ ও গোষ্ঠী রাষ্ট্র ও মূলধারার জনগণের প্রবল বিরোধিতা উপেক্ষা করে পূর্ব ভূখ-ের মানুষের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন দানের সাহস করেছিলেন তাঁদের খুঁজে বের করে সম্মান জানানো, এবং চার, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ঘাড়ে ধর্মীয় ও জাতিগত আধিপত্যের যে আছর ক্রমাগত চেপে বসেছে তাকে ঝেঁটিয়ে দূর করার লক্ষ্যে যাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেই লড়াইকে জোরদার করা।

Untitled Document